ইরানের বিক্ষোভ ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের ভাবনা, আলোচনার পথে তেহরান
ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ চ্যানেল খোলা রেখেছে এবং আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে দেশটির বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার জন্য এই বিক্ষোভ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫৪৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪৯৬ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মী। এছাড়াও, ১০,৬৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ইরানের নেতারা অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতি নিয়ে জনরোষের মুখে পড়েছেন, যা এখন শাসকগোষ্ঠীর পতনের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই বিশাল বিক্ষোভের মধ্যেও শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কোনো বিভেদ দেখা যায়নি এবং বিক্ষোভকারীদের কোনো স্পষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগ চ্যানেল খোলা আছে এবং প্রয়োজনে বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী মধ্যস্থতাকারী সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমেও যোগাযোগ বজায় আছে। আরাকচি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের বিষয়েও তাদের আপত্তি নেই। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে এবং তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা ভাবছেন। তবে, তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে আলোচনার আগেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। মার্কিন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প মঙ্গলবার তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে ইরানের বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো এবং সরকারবিরোধী দলগুলোকে অনলাইন সহায়তা প্রদানের মতো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করবেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের উপর কোনো হামলা হলে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। আরাকচি দাবি করেছেন, গত বছর ৭ অক্টোবরের ইসরায়েল হামলার পর থেকে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমেছে এবং ইরান এখনো যুদ্ধের আঘাত থেকে সেরে উঠছে। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫৩টি মসজিদ এবং ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্স জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তিনি 'সন্ত্রাসীদের' কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ইরান এই সব ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে আলোচনার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
ইরানের বিক্ষোভ ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের ভাবনা, আলোচনার পথে তেহরান: এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন - ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপর কঠোর পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। এই বিক্ষোভ, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে বর্তমান ধর্মীয় শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ চ্যানেল খোলা রেখেছে এবং আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি। এই দুই দেশের মধ্যে চলমান এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি
হাজার হাজার ইরানি নাগরিক গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মূল ক্ষোভের কারণ হলো তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক স্থবিরতা। initially, এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ হিসাবে, কিন্তু দ্রুতই তা ধর্মীয় নেতা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি 'শাসকগোষ্ঠীর পতন'-এর ডাক দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্য মতে, এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯৬ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মী। এছাড়া, ১০,৬৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি, কারণ গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানের ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা তথ্যের প্রবাহকে কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইরানের সরকারকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্পের কঠোর মনোভাব এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ
রবিবার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে পারে, তবে তিনি ইরানের নেতাদের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপেরও হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকি আন্তর্জাতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে ইরানের বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করবেন বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি এবং সরকারবিরোধী শক্তিকে অনলাইন সহায়তা প্রদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে, কারণ এলিট সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু ঘাঁটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যার ফলে প্রচুর বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ট্রাম্পের এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের হুমকি ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে ‘ভুল গণনা’ না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের উপর কোনো হামলা হলে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। কালিবাফ ইরানের এলিট রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন প্রাক্তন কমান্ডার, তাই তার এই বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
তেহরানের আলোচনার প্রস্তাব এবং দ্বিধা
যদিও ট্রাম্প কঠোর পদক্ষেপের কথা বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ চ্যানেল খোলা রেখেছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই জানান, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগ চলছে এবং প্রয়োজনে বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মধ্যস্থতাকারী সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
বাঘাই আরও বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছে, কিছু ধারণা এসেছে এবং সাধারণভাবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এমন একটি দেশ, যা কখনো আলোচনার টেবিল ছেড়ে যায়নি।” তবে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘বিপরীতমুখী বার্তা’ আসার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতার অভাব প্রমাণ করে এবং এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
আরাকচি তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে একটি ব্রিফিংয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের জন্যও উন্মুক্ত। এই বক্তব্য ইরানের দ্বিমুখী নীতিকে প্রতিফলিত করে – একদিকে তারা নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটেন, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থার মতে, তাদের দেশগুলোকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করার জন্য তেহরানের অনুরোধ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। ইরান এই বিক্ষোভের প্রতি যেকোনো রাজনৈতিক বা মিডিয়া সমর্থনকে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ বলে মনে করে।
তেহরানের এঙ্কেলাব স্কোয়ারে এক বিশাল জনসভায় পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেন, ইরানিরা চারটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে – “অর্থনৈতিক যুদ্ধ, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধ এবং আজ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।” তার এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের শত্রুদের মোকাবিলায় দৃঢ় সংকল্পের ইঙ্গিত দেয়।
আরাকচি আরও অভিযোগ করেন যে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫৩টি মসজিদ এবং ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্স জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে ‘কোনো ইরানি মসজিদ আক্রমণ করবে না’, যা এই ঘটনাগুলোর জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করার ইঙ্গিত দেয়। তেহরানের আবুযার মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মুখ ঢাকা এক ডজন লোক গত সপ্তাহে মসজিদের কাঠামো ভাঙচুর করছে, বই মাটিতে ফেলে দিচ্ছে এবং আসবাবপত্র নষ্ট করছে। রয়টার্স এই ঘটনার সময় এবং স্থান যাচাই করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে ৯ জানুয়ারি মসজিদটিতে আগুন লাগানো হয়েছিল।
ইরানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও আঞ্চলিক প্রভাব
গত বছরে সংঘটিত যুদ্ধ থেকে ইরান এখনো পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেনি। ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এ ইসরায়েলে হামলার পর থেকে লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের উপর আঘাতের ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে। জুন মাসের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করেছিল, যা তেহরানের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল।
বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের প্রতিক্রিয়ায়, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। ৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাসন করা ধর্মীয় নেতাদের প্রতি ইরানিদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রতি ক্ষোভও বেড়েছে, যার তেল ও গ্যাস, নির্মাণ ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্বার্থের মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। এই অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং জনগণের অসন্তোষ বর্তমান সংকটের একটি বড় কারণ।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা
ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় বিক্ষোভ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি সরকারের দমন-পীড়ন এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরাকচি বলেছেন যে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে।
ভবিষ্যৎ
পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের হুমকি এবং ইরানের আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যে একটি ভারসাম্যহীনতা বিদ্যমান। ইরান যদিও আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানাচ্ছে, একই সাথে তারা তাদের সামরিক শক্তি এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শনেও দ্বিধা করছে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে আলোচনার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করছে, যা ইরানের শাসনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এই বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উভয়ের উপরই গভীর প্রভাব ফেলবে। যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যান, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহৎ সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। অন্যদিকে, যদি সংলাপের মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ খুলে দিতে পারে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং উভয় পক্ষের কাছ থেকে আরও সংযম এবং কূটনৈতিক দূরদর্শিতা প্রয়োজন।
ইরানি জনগণ গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে, বিশ্বনেতাদের দায়িত্ব হবে সহিংসতা দমন করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এবং মানবাধিকার রক্ষা করা। ইরানের ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত পথে, এবং বিশ্ব তাকিয়ে আছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0