কোচবিহারের দিনহাটায় নারকীয় হত্যাকাণ্ড: পাটক্ষেতে উদ্ধার ১১ বছরের নাবালিকার দেহ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক শফিকুল, আদালতে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত
কোচবিহার জেলার দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানার পয়াতুরকুঠি এলাকায় ১১ বছরের এক নাবালিকার মৃতদেহ পাটক্ষেত থেকে উদ্ধারের পর গৃহশিক্ষক শফিকুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। দিনহাটা মহকুমা আদালত অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটা অঞ্চলে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় নাবালিকা খুনের মামলায় অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক শফিকুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই ১১ বছরের ছাত্রী। তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বাড়ির কাছে একটি পাটক্ষেত থেকে। মৃতদেহ উদ্ধারের পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে খুনের আভাস পাওয়ায় আশপাশের কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে প্রযুক্তিগত ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে গৃহশিক্ষক শফিকুল শেখের বিরুদ্ধে সন্দেহ নিশ্চিত হয়। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনাস্থলে পুনরায় পরিদর্শন করানো হয় এবং ঘটনার পুনর্গঠন (crime scene reconstruction) করা হয়।
এরপর অভিযুক্তকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ১০ দিনে তাঁকে জেরা করে ঘটনার সঠিক কারণ, ধর্ষণ ও হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বের করে আনা হবে।
বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং অন্যান্য আটকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়নি, জামিনের আবেদনও দায়ের হয়নি। প্রকাশ্য আদালতের নথিতে হেফাজত বাড়ানোর বা বিচার শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা শুধু প্রাথমিক হেফাজতের পর্যায়েই রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যার অধিকাংশ নিউজ গ্রাফিক্স বা প্রতীকী ছবি। ঘটনাস্থলের সরাসরি প্রমাণিত ফটো খুব কম পাওয়া গেলেও—একটি ছবিতে পুলিশের ফিতাবেষ্টিত পাটক্ষেত দেখা গেছে—যা এই মামলার সঙ্গেই সংযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এখানে উল্লেখ্য, উপলব্ধ প্রতিবেদনগুলো মূল ঘটনার (গ্রেপ্তার ও হেফাজত) বিষয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও—এখন পর্যন্ত সরকারি আদালতের নথি বা নির্ভরযোগ্য অফিসিয়াল কপি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগের সঠিক ধারা, হেফাজত বৃদ্ধি বা জামিন সংক্রান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বিস্তারিত জানা যাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0